এপস্টেইন ফাইলস কি? কি আছে এই নথিতে? বিশ্বজুড়ে কেন এত আলোচনা

এপস্টেইন একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কিশোরী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন শোষণের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রথমবার ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলেও, রাজনৈতিক ও আইনগত প্রভাব খাটিয়ে বড় সাজা এড়াতে পারেন। এরপর ২০১৯ সালে, আবারও অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অপরাধে গ্রেপ্তার হন। কিন্তু বিচারের অপেক্ষায় কারাগারে রহস্যজনকভাবে মারা যান, যা আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়।

এপস্টেইন ফাইলস কী?

এই দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারের প্রক্রিয়ায় তার সম্পত্তিতে বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র, ই-মেইল, ছবি এবং ভিডিও উদ্ধার করা হয়। এই নথিপত্রগুলোকে ‘এপস্টেইন ফাইলস’ বলা হয়। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি, ১ লাখ ৮০ হাজারের মতো ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যা এপস্টেইনের মানি-লন্ডারিং ও যৌন পাচারের সাথে জড়িত সকল তথ্য উপস্থাপন করে।

নথিপত্রে কী আছে?

কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের মানসিক মূল্যায়ন, তার মৃত্যুর তথ্য ও রহস্য, তার সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত ও দোষ স্বীকার, বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও এপস্টেইনের ই-মেইল যোগাযোগ, যা প্রমাণ দেয় যে আইনি ঝামেলার মধ্যেও তিনি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

এই ফাইলসের প্রকাশের ফলে মার্কিন রাজনীতি ও সমাজে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এতে অনেক ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। এটি শুধু একটি যৌন অপরাধের গল্প নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, নৈতিক অধঃপতন এবং আইনের অসাম্য প্রকাশ করছে।












WRITE A COMMENT